ফরিদপুরে বাজার-মার্কেট পরিদর্শনে পুলিশ সুপার - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ফরিদপুরে বাজার-মার্কেট পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

ফরিদপুরে বাজার-মার্কেট পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

 

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন বাজার-মার্কেট পরিদর্শন করলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বিপিএম।

 

তিনি আজ সকাল সাড়ে ১১ টায় ফরিদপুর শহরে বিভিন্ন বাজার চকবাজার, নিউ মার্কেট, কাপড় পট্টি সহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, দেশে এখন করোনা দ্বিতীয় ঢেউ চলছে এদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যবসা করার অনুরোধ করেন। একই সাথে ক্রেতাসাধারণ গণ যেন সবাই সামাজিক নিরাপত্তা ,সামাজিক দূরত্ব মেনে, চলে। এবং মাস্ক

ব্যবহার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন চন্দ্র সরকার, টিআই তুহিন লস্কর, পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল গফফার, কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার মাসুদ রানা প্রমুখ।

 

অন্যদিকে চকবাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলা, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক দিন্দয়াল আগরওয়ালা, প্রমূখ। তবে বাজারে পরিদর্শনকালে বেশিরভাগ ক্রেতা ও বিক্রেতা কে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।


চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।

 

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে রাজশাহী মহানগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এ সময়ে ২৮ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা।

 

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তবে মহানগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে মহানগরীতে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।

 

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনে কাছে চিঠি

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*

*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

 

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া ,ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু

দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।

 

জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

 

এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

 

সূত্রমতে, সর্বোচ্চ গ্রেডে অর্থাৎ অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। আর একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা আরও কম।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানিয়েছে, মূলত এখন দুই প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা আছে, তা দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ল

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তা নিচ্ছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় রয়েছে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব দেশে বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বহু আগে থেকেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশগুলো আমদানীকৃত উদ্বৃত্ত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। এ দেশগুলোর বেসরকারি উদ্যোক্তারা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি পরিশোধনাগারে পরিশোধন করছে। পরে তা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন, শিল্পকারখানায় বিক্রি করছে।

 

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খুচরা জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক বাজারেও তারা এ জ্বালানি বিক্রি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ভারতজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রিলায়েন্স : ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। গুজরাটের বিশাল জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সে তা পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধনাগারে উৎপাদন হয় পেট্রোল ও ডিজেল। রিলায়েন্স তাদের নিজস্ব খুচরা জ্বালানি স্টেশনের নেটওয়ার্ক ও শিল্প গ্রাহকদের কাছে ভারতজুড়ে এ জ্বালানি বিক্রি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের এ বেসরকারি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে।

 

রিলায়েন্স বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতের জামনগরের নিকটবর্তী বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। সুপার ট্যাংকারগুলো উপকূলের অদূরে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর মাধ্যমে বিশাল সব স্টোরেজ ট্যাংকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে। এরপর অপরিশোধিত তেল জামনগর রিফাইনারিতে পাঠানো হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল তেল শোধন কেন্দ্র। এ রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি যেমন-পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকে রূপান্তর করে।

 

বিশ্বব্যাপী সরকারকে সহায়তা করছে বেসরকারি খাত

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

আজানের ধ্বনিতে প্রতিদিন মুখর হয়ে ওঠে মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে সমবেত হন শতাধিক মুসল্লি। তাঁদের কাছে এটি ইবাদতের স্থান, এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। তবে এর আরেকটি পরিচয়ও আছে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে বদলে দিচ্ছে, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এমন বাস্তবতায় প্রচলিত পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

 

ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক। পুরো স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক।

 

আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সেই হিসাবে মসজিদটিতে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলো ব্লক সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মসজিদটি স্থানীয় মানুষের সামনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

 

নামাজ আদায় করতে আসা আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান,,মাদারগঞ্জ জামে মসজিদটি নির্মাণের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে এলাকার মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য নানা ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। এখন একটি সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী মসজিদে আমরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসেন। শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদটি আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করেছে।

 

তাঁরা আরও বলেন, মসজিদটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। আমরা আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখন মসজিদের দেয়াল ও নির্মাণকাজ দেখে বুঝতে পারছি, প্রচলিত পোড়া ইটের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ দিয়েও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। ইএসডিও শুধু আমাদের একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়নি, একই সঙ্গে আমাদের একটি নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

 

মসজিদটি নির্মাণ করে দেওয়ায় ইএসডিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশেষভাবে আনন্দিত যে মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া বড় একটি সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।

 

এ বিষয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মানুষ এর বাস্তব ব্যবহার দেখুক এবং উপলব্ধি করুক যে প্রচলিত পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও কার্যকর স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় টানা দুবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার পর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

রামিদুজ্জামান টুটুল গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ার মিন্টু হোসেনের ছেলে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাখুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

টুটুলের দাদা আনিচ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার আগে টুটুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আজও সকাল ছয়টার দিকে ডাকতে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেখা যায়, সে আর বেঁচে নেই।’

 

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টুটুল এমনিতেই খুব ভদ্র ছেলে। গ্রামের কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বছরও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।’

 

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মহাসিন আলী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

এসএসসিতে ইংরেজিতে দুবার ফেল, বকাঝকার পর সকালে মিলল শিক্ষার্থীর লা/শ

রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।

 

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে রাজশাহী মহানগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এ সময়ে ২৮ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা।

 

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তবে মহানগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে মহানগরীতে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।

 

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনে কাছে চিঠি

যশোরের কেশবপুরে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের খাদ্য গুদামের সামনে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, নিহত ওই পরীক্ষার্থীর নাম ইয়াসিন আরাফাত (১৮)। তিনি উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাঁস্তা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

তিনি জানান, ইয়াসিন সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে কলেজে যাচ্ছিলেন। পথে কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে অন্য হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

তিনি আরও জানান, ইয়াসিন আরাফাত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশন থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে ছেড়ে আসা চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ি মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস গাড়িটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনা গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী সেগুন বাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারীয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (২৮), চকরিয়ার ফুলছড়ি শিয়ালপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭) এবং ঈদগাঁও উপজেলার খুটাখালী নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

 

এদের মধ্যে জসিম উদ্দিন মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং অপর তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন- জিয়াবুল হক (৪০), মো. সরওয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। এছাড়া সৈয়দ করিম (৩০) নামে আহত আরেক যাত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত ৫

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d